"আমিত্ব" কাব্যগ্রন্থ: জান্নাতুল ফেরদৌসী

https://www.khoborjal25.blogspot.com/

"আমিত্ব" কাব্যগ্রন্থ: জান্নাতুল ফেরদৌসী

ছোট্ট কুটিরে বাস মানব মন; চাওয়া-পাওয়া অসীম। তবুও স্বপ্নরা ধেয়ে চলে কাছ থেকে দূরে, দূর থেকে কাছে। অস্থায়ী রঙ্গমঞ্চের এই উঠা-নামার মাঝেই মানুষ বেঁচে আছে কিছু না কিছুর পিছু হেটে।

আমার স্বপ্নের থলি থেকে একটি স্বপ্ন তুলে ছেড়ে দিলাম পাঠকের উদ্দেশ্যে। আমার শ্রদ্ধেয় স্যার ( বাংলা ) জনাব মোঃআবঃ মান্নান । ক্লাসে আমার নাম ছিল গ্রন্থকীট। তবে কখনো ভাবিনি নিজের লেখা বই প্রকাশিত হবে বা আমার প্রিয়ভাজনদের হাতে তুলে দিতে পারব। 
এযেনো না চাইতেই এক পশলা মোহিত বৃষ্টি। হঠাৎ দেখা, অনাকাঙ্খিত সাক্ষাৎ। তারপর ইচ্ছেপূরণ। 

স্যার যেনো বিশ্বাসই করছিলেন না যে, তার এই ছাত্রী কালি-কলমে বাঁধাই করা একখানা বই তাকে উপহার দিতে পারবে। 
এটাই ছাত্র জীবনের প্রাপ্তি।


💕আমিত্বের অর্ঘ্য💞


হঠাৎ দেখা, হঠাৎ বৃষ্টি, হঠাৎ স্মৃতির অবিরল ধারা,
চোখে মুখে সেই পুরনো দিনের আলোছায়ার খেলা,
ক্লান্ত দুপুরে, নরম রোদের চাদর পেতে,
আমি দাঁড়ালাম সময়ের পাড়ে—
দেখি সেদিনের সেই প্রিয় মুখ,
আমার কলেজ জীবনের নক্ষত্রসম স্যার!

কতদিন কেটেছে, কত শত ব্যস্ততার রূপকথা বুনেছি,
তবুও মনে থাকে, সেই প্রথম কবিতা লেখার ক্লান্তিহীন আহ্বান,
স্যারের গলা, স্যারের চোখ, স্যারের উদার হাতছানি—
"লিখতে থাকো, থেমো না, ভাঙো না নিজস্ব দীপ্তি।"

আজ, কত বছর পরে,
হাতে আমার নিজের লেখা কাব্যগ্রন্থ,
কাগজের পাতায় আমার মনের প্রতিচ্ছবি,
শব্দের ভেতর গড়া আমার ছোট্ট একটি জীবনবৃক্ষ,
আমি এগিয়ে দিলাম স্যারের হাতে,
নতুন দিগন্তের নিঃশব্দ শ্রদ্ধাঞ্জলি।

স্যার দেখলেন, পড়লেন, হাসলেন এক অদ্ভুত প্রশান্তিতে,
কী অপার্থিব আনন্দের ঢেউ বয়ে গেল তার মুখে,
আমি দেখলাম, সেই চেনা চোখে এখনো কত আশীর্বাদের আলো,
আশীর্বাদ, যা আমার কলমে ফোটায় জীবনরসের নীরব বসন্ত।

আমার বুকের গভীর থেকে জেগে উঠল কৃতজ্ঞতার অশ্রুধারা,
আহা! কী সার্থক হলো আজ আমার কালি-কলম,
কী অনবদ্য হলো আজ আমার অবিরাম শব্দযাত্রা।
এই কাব্যগ্রন্থ শুধু আমার নয়,
এ আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার,
স্যারের ভালোবাসায় গড়া এক টুকরো চিরস্থায়ী আকাশ।

চাইনি কোনো উত্তর, চাইনি কোনো বাহবা,
চেয়েছিলাম শুধু এই নিঃশব্দ পূর্ণতা,
চেয়েছিলাম শুধু আমার 'আমিত্ব' পৌঁছে যাক তার হাতের স্পর্শে,
চেয়েছিলাম শুধু এই ছোট্ট মুহূর্তের অমরতা।

আজি সার্থক হে প্রভু, সার্থক আমার যাপন,
যদি স্যারের হাসিতে দেখি আমার সৃষ্টির প্রতিধ্বনি,
যদি অনুভব করি তার আশীর্বাদের ছায়ায়
একটি শব্দও জন্ম নেয়,
একটি স্বপ্নও পাড়ি দেয় অজানা নীলিমায়।

হঠাৎ দেখা, হঠাৎ উপহার, হঠাৎ চিরকালীন ঋণ,
আমার কাব্যগ্রন্থ নয়, আজ উপহার দিলাম আমার অস্তিত্ব,
আমার সমস্ত ভালোবাসা, সমস্ত সংগ্রাম, সমস্ত শব্দের ঘ্রাণ।
স্যার! আপনার করুণাময় দৃষ্টিতে আজও আমি শিশুর মত,
তবু মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে বলি—
দেখুন, আমি হেঁটেছি সেই আলোর পথে,
যা একদিন আপনিই দেখিয়ে ছিলেন।।

 
💁বারংবার ধ্বনিত কণ্ঠস্বর💦

 

হঠাৎ দেখা সেই প্রিয় স্যারের সাথে,
স্মৃতিরা ভাসে আজ হৃদয়ের পাথে।
হাতে তুলে দিলাম কাব্যগ্রন্থ মোহ,
চোখের কোণে জাগে স্নেহময় অশ্রু।

নরম সন্ধ্যাবায়ু ছুঁয়ে যায় মৃদু,
শিশিরের শব্দে বাজে মন উদাসু।
হেসে উঠলেন স্যার মৃদু আলোচনে,
আশীর্বাদের ছায়া ফুটে উঠল মনে।

কতদিন আগে শিশুমনের সুরে,
স্যার বলেছিলেন— "হেঁটে চলো দূরে।
কাঁদবে না কখনো, হারবে না তুমি,
তোমার কলমেই জ্বলবে দীপ্ত ভূমি।"

আজ সেই দিনটির প্রত্যয়ী প্রত্যয়,
স্যারের হাতেতে আমার কাব্যরায়।
চোখের চাউনি এক প্রশ্রয়ে ভরা,
কবি জীবনের এ জন্মসার্থকতা।

একটুকু হাসিতে আশীর্বাদ ঝরে,
শব্দেরা উঠলো প্রাণ ছুঁয়ে ধরে।
সার্থক সাধনা, সার্থক কান্না,
সার্থক অশ্রুর নিঃশব্দ গাথা।

চাইনি বাহবা, চাইনি উচ্চারণ,
চেয়েছি স্নেহের স্পর্শের বরণ।
চেয়েছি স্যারের চোখের দীপ্তি,
চেয়েছি আশীর্বাদ, চেয়েছি চিত্তি।

হঠাৎ দেখা আজ, সন্ধ্যার কুয়াশা,
হঠাৎ হৃদয়ের আবেগের ভাষা।
হঠাৎ জীবনের পূর্ণ এক সকাল,
হঠাৎ স্বপ্নের মধুর অপার।

স্যার, আপনাকে দিলাম সবটুকু,
আমার কলমের নিঃশেষ কাব্যরু।
আপনার আশীর্বাদ বয়ে নেবো,
চিরকাল হৃদয়ে জ্বলতে দেবো।

 

👉বেঁচে থাকুক এমন আদর্শ; প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মননে👈

 [ 26.04.2025 ]


Post a Comment

Previous Post Next Post