ভুতবেল25ঃ সত্যঘটনা অবলম্বনে গল্পস্বল্প(৩)

https://www.khoborjal25.blogspot.com

              গল্প:(৩)

 #রাত_তখন_বারোটা_২
 জান্নাতুল ফেরদৌসী

ঘটনার উৎস: "নতুন হোস্টেল"(আমার সাথে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা)
ঘটনার স্থান : মহিলা হোস্টেল
ঘটনার সময়কাল: ২০০১-২০০৩

 #সত্য ঘটনা অবলম্বনে:

তখন অনার্স(স্নাতক সম্মান) ১ম বর্ষের ছাত্রী।হোস্টেল জীবন কেমন,সেই অনুভূতি থেকেই আমার হোস্টেলে থাকার খুবই শখ জাগে। মা-বাবার দোয়ায় শুরু হলো আমার হোস্টেল জীবন।কলেজে নতুন তৈরি হওয়া হোস্টেলেই আমার ৩য়- ফ্লোরে জায়গা হয়,থাকার। ভালোই অনুভূতি। এক রুমে চারজন আমরা। ২য় ফ্লোরের এক কোণে ছিল নামাজের স্থান। হোস্টেলটি নতুন হওয়ায়,তেমন শিক্ষার্থী ছিলনা তখন।চারতলা ভবন।শেষতলা পুরোটাই খালি ছিল। আমাদের কলেজ ইউনিফর্ম ছিল সাদা। তবে একটা অদ্ভুত ব্যাপার হলো নতুন হোস্টেলে, কলেজ কর্তৃপক্ষ সবকিছু গুছিয়ে সিট ভাড়া দিয়ে উঠতে পারেননি তখনো। কাজ চলমান ছিল হোস্টেলের।তবুও তিনতলা পর্যন্ত সিটবুক ছিল। হোস্টেলের ভিতর ছোট্ট একটা ফুলবাগান ছিল।দিনের বেলায় ফুলগুলো বিভিন্ন রঙের দেখা যেতো,অথচ সন্ধ্যার পর,সম্পূর্ণই সাদা দেখাতো সব ফুল। আমি খুবই অবাক হতাম।আমার রুমমেটদের সাথে শেয়ারও করেছি, বিষয়টি নিয়ে। তারা অবশ্য এব্যাপারটি চেপে যেতে বলে।আমিও তাদের কথা মতো চুপ থাকতাম। এমন আরও অনেক অদ্ভুত ব্যাপার আমার নজরে পড়ে। যেমন: কলেজের ভিতরে বা বাইরে কোথাও কোনো কামিনি গাছ ছিলনা,অথচ প্রতিদিন রাতে প্রায়ই কামিনি ফুলের সুগন্ধ আমার নাকে ভেসে আসত। একটু ভয়ও লাগত তাতে। তবুও মনে সাহস রাখতাম। এমনকি চারতলা সম্পূর্ণ খালি ছিল, সেখান থেকেও মাঝে মধ্যে গভীর রাতে নুপুরের শব্দ পেতাম। মনে মনে ভাবতাম,হয়তো পাশের কোনো রুমের কেউ নুপুর পায়ে সিঁড়ি দিয়ে, কোনো কারণে উঠানামা করছে। আমার রাত জেগে পড়া-শুনা করার অভ্যাস ছিল।অবশ্য হোস্টেলের আরও অনেকেই পড়ত।তাছাড়া তিনতলা পর্যন্ত আলো জ্বালিয়ে রাখা হতো। তবুও প্রতিদিন কোনোনা কোনো অদ্ভুত ব্যাপার আমি লক্ষ্য করতাম। একবার শখের বশেই একটা নাইটকুইন ফুলগাছ আমাদের রুমের বারান্দায় এনে রেখেছিলাম। আমার সতীর্থদের কাছে শুনতাম,প্রতি বারো বছর পরপর নাকি তাতে একটা ফুল ফোটে। তখন ভাবলুম,আমার কলেজ জীবনে তাহলে আর সেই ফুল দেখা হবেনা।কিন্তু কী অবাক কান্ড! যেদিন আমি ফুলগাছটি লাগিয়েছি,তার পরের দিন প্রচুর বৃষ্টি শুরু হয় এবং সন্ধ্যার পরপরই একটা লালসাদা সেডের বড় নাইটকুইন ফুল ফোটে। হোস্টেলের সবাই অবাক।এটাও বলতে শুনি "তোর/তোমার কপাল ভালো।" মনেমনে বললাম,ভালো না মন্দ তা সৃষ্টিকর্তায় ভালো জানেন। এভাবে বিভিন্ন অদ্ভুত ঘটনার মধ্য দিয়ে আমার হোস্টেল জীবন চলতে থাকে।  যখন আমি অনার্স ২য়-বর্ষের ছাত্রী, তখন খুবই অবাক করা একটা ঘটনা আমার জীবনে ঘটে যায়। হঠাৎ একদিন মাঝরাতে তন্দ্রাচ্ছন্ন নয়নে দেখি,আমাদের রুমের দরজার সামনে বিশাল আকৃতির একজন লাল রঙের লোক, গদা হাতে দাড়িয়ে আছে।  আমি বাংলার ছাত্রী ছিলাম, তাই ভাবছিলাম বাংলা বইয়ের রাম-রাবনের গল্প পড়তে পড়তে যেহেতু ঘুমিয়ে যাচ্ছি, হইতো স্বপ্ন দেখছি। পরে দেখি, সাদা পাঞ্জাবি পরিধেয় একজন সুদর্শন বৃদ্ধ লোক তার পাশে দাড়িয়ে আছে। আমায় যেনো কী পড়তে বলছে। এমন অবস্থায় আমার চোখই যেনো খুলছেনা।তারপর বড় ফণা তোলা একটা সাদা সাপ আমার মুখের উপর এসে,আমার চোখ বরাবর তার  ফণাটাকে, সামনে-পিছনে আসা-যাওয়া করাচ্ছে। এমন অবস্থায় আমার রুমমেটদের যে ডাকবো, তা-ও যেনো পারছি না।অবস হয়ে গেছে সমস্ত শরীর। তারপর কী হয়েছিল, তা আর মনে নেই। তবে,পরের দিন থেকে আমার সামনে যারা-ই আসতো, তাদের মুখ দেখে কেমন করে যেনো তাদের জীবনের সব কিছুই বলে দিতে পারতাম। বাংলা ভাষায় যাকে বলে"জ্যোতিষী"।এতে করে,সম্পূর্ণ হোস্টেলেই নামডাক ছড়িয়ে পড়ে,আমার। কিন্তু কখনোই আমি এই বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারতামনা যে,আমি কী বলছি। সেই সাথে নিয়মিত তাহাজ্জুদের নামাজ না পড়লেও যেনো, ঘুমই আসতো না। তবে হোস্টেল জীবন ত্যাগ করার সময়,সেই কামিনি ফুলের ঘ্রাণ আর নুপুরের শব্দ আরও একবার শুনতে পাই। পরে অবশ্য জানতে পারি,ঐ নতুন হোস্টেল যেখানে তৈরি হয়েছিল, সেখানে পূর্বে একজন ধার্মিক মহিলার বসবাস ছিল(কলেজের কারো আত্মীয়)। তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন সেখানে, পারিবারিক কারণে।
যার প্রভাব আমার উপরে বাছাই করে এসে পড়েছিল।। 
=========০===========


Post a Comment

Previous Post Next Post