https://www.khoborjal25.blogspot.com/
গল্প:(২)#রাত_তখন_বারোটা_২জান্নাতুল ফেরদৌসী
ঘটনার উৎস: " অপারেশন থিয়েটার"(আমার সাথে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা)ঘটনার স্থান : পিরামিড সার্জিক্যাল ক্লিনিকঘটনার সময়কাল: ২০০৮#সত্য ঘটনা অবলম্বনে:বি,এড,প্রশিক্ষণার্থী(ফাইনালিয়ার) তখন আমি।মাঝেমধ্যেই পেটে ব্যথা করতো। তেমন একটা গুরুত্ব দিতামনা। ভাবতাম,গ্যাসের ব্যথা,ওষুধ খেলেই হয়তো ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু না,দিন যত যেতে থাকে, ব্যথার উপশম না হয়ে,পেটের ব্যথাটা আরও চারগুণ বৃদ্ধি পেতে থাকে। আমার নানী,খালা সেদিন আমাদের বাড়িতে সবে বেড়াতে এসেছেন। আমি বরাবরই চাপা স্বভাবের, চুপচাপ বসে থাকা এক বিরল প্রজাতি। আমার ঘরে আমি যখন,পেটের যন্ত্রণায় ছটফট করছি,তখন আমার মা,বাবা,নানী,খালা এসে দেখেন আমি আমার বিছানার উপর থেকে একবার নামছি একবার উঠছি,সাথে গুমরাচ্ছি। এতোটাই অস্বস্তি আর যন্ত্রণা হচ্ছে যে পেটে,তারা যখন আমার কাছে শুনতে চাচ্ছেন আমার কী হয়েছে, তার কোনো উত্তরই আমি দিতে পারছিলাম না যেনো। তারপর আমাকে সবাই সার্জিক্যাল ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে ডাক্তার সবসময়ই থাকতেন। তাই তেমন অসুবিধা হয়নি আমার চিকিৎসায়। ডাক্তার দেখে বললেন, আমার এফ,এনডিক্সের অপারেশন করতে হবে,বিলম্ব হলে অনেক বড় অসুবিধা হতে পারে। আমাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আমার জ্ঞান ছিলো তখন, কিন্তু কারো কথাই শুনতে পাচ্ছিলাম না যেনো।চারপাশ কেমন যেনো কুয়াশার চাদরে ঢেকে ছিল। অপারেশন থিয়েটারে যখন গেলাম,তখন আধোখোলা চোখে দেখতে পেলাম, ডাক্তারের পাশে সাদা পাঞ্জাবি পরিধেয় মৃদু হাসির একজন বৃদ্ধ দাড়িয়ে আছেন।আমি আঙুল তুলে ডাক্তারকে দেখাতে চাইছিলাম, কিন্তু অবস শরীরের আঙুল যেনো আর উঠলনা।আস্তে আস্তে লোকটি আমার মাথার কাছে আসেন। তারপর এসির বাতাস থেকেও ঠান্ডা হাওয়ার ফুঁ আমার সমস্ত শরীরে যেনো ছড়িয়ে পড়ে। যখন জ্ঞান ফেরে,তখন দেখলাম আমি একটা ক্যাবিনে শুয়ে আছি। তখনও ঠিকমতো শরীরের ক্লান্তি, অবস ভাব কাটেনি। আমার পরিবারের সবাই আমার পাশেই ছিল,কিন্তু তারপরও কেমন যেনো অন্য রকম একটা অনুভূতি উপলব্ধি করছিলাম। তখনও কানে কিছুই শুনতে পারছিলাম না, সমস্ত ঘরটা কেমন যেনো গোলাকার হয়ে ঘুরছিল,সাথে আমিও।কাউকে কিছু বলার চেষ্টা করেও কিছুই বলতে পারছিলাম না। এমন অবস্থায় সেই একই ব্যক্তি আতর মাখানো ধবধবে সাদা কাপড় আমার মুখের উপর দিয়ে নিয়ে চলে যায়। তারপর আর কিছুই মনে পড়ে না। একটু সুস্থ হলে, এই বিষয়টি আমি আমার নানী এবং খালার সাথে শেয়ার করি। আমার নানী আমাকে জানান,একজন সৎ ঈমানদার জিন সর্বদাই আমার বিপদে পাশে থাকতে চান। আর এই জিনের উৎপত্তি আমার নানীর কাছ থেকে। কিন্তু এর প্রভাব আমি এখন আর উপলব্ধি করতে পারিনা।তবে,মনে হয় কেউ যেনো আমার পাশে পাশে চলে।===========০=========
