"স্মারক চিহ্ন"
জান্নাতুল ফেরদৌসী
বেলা আমার গড়িয়ে যায়
যেন-তেন কায়দায়।
দুষ্টু-মিষ্টি নামের খ্যাতি
চলে বেশ বায়নায় !
কত সাজের পাড়াপড়শি
প্রশ্ন সাধে আমায়,
“একরত্তি কনেগো তুই, জুটবে কি তোর কানাই?”
অক্ষি মোচন করে কহি,”হবে হবে দেখবে তবে আমায়,
কেমনতর সানাই বেজে আসবে মোর জামাই” !
আধো কালো রং মেখে ঐ জলদবাবু গায়,”হুশিয়ার হুশিয়ার !
আসছে ধেয়ে গাঁয়।
সুখ-দুখের মিতালি হবে,
দেখবে বটছায়।”
ভাঙা গুঞ্জন শুনে ডাকি,”কী কও তুমি খুড়ো !
কালা পিরান পইরে আছো,চিহ্ন কি আর বাকি।
সোনা গাঁয়ের মানুষ মোরা,
সুখ-দুঃখের সাথি।
আসুক যত দূরদর্শী হার মানা সব সাকি;
ফুঁৎকারে সব যাবে উড়ে,
থাকবেনা কিছুই ফাঁকি” !
নিশি-প্রাতের খেলা চলে,
পরবাসীর মায়ায়।
ভাঙা বোলের আওয়াজ ছোটে,
আমার বঙ্গের হওয়ায়।
আঁধার মাঠের পথে চরে,
মুক্তি-আলোর নিশান।
মন্ত্রপূতের দোলায় দুলে,
কাটে ঘোর অবসান।
ঢাক-ঢোল আর সানাই বাজে
আসবে বুঝি কানাই ;
দেখবে এবার কেমন সাজি
মুক্তবঙ্গের ছায়ায় !
যুগবৃক্ষের পশ্চাৎপদে,
চলেছি অথৈ পথ।
ক্লান্তির ঘাটে শান্ত পটে,
এঁকেছি যুগল খাত।
সময় ঘড়ি রাখেনি কথা,
ছায়াবৃক্ষের ভাস্কর পাতায়
রেখেছে আমায়,
স্মারকচিহ্নের ব্যথায় !!🤔🤔
