আমরা প্রায়ই বলি— “ওটা একটা বাচ্চা ছেলে” বা “বাচ্চারা খুব দুষ্ট!”
এমনকি অনেক শিক্ষিত মানুষও অভ্যাসবশত “শিশু”র জায়গায় “বাচ্চা” শব্দটি ব্যবহার করেন।
কিন্তু ভাষাতাত্ত্বিকভাবে এটা ভুল ও অনুপযুক্ত।
🔹 ‘বাচ্চা’ শব্দের উৎস ও ব্যবহার:
‘বাচ্চা’ শব্দটি মূলত ফারসি ভাষা থেকে এসেছে। এর অর্থ— ছোট প্রাণী বা পশুপাখির ছানা ।
[বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা অভিধান (সংস্করণ: ২০১২) ]
“বাচ্চা (ফারসি): ছানা; প্রাণীর নবজাতক।”
অর্থাৎ গরু, ছাগল, কুকুর, বিড়াল, পাখি ইত্যাদির ছোট সন্তানকে ‘বাচ্চা’ বলা যায়।
👉 যেমন: বিড়ালের বাচ্চা, ছাগলের বাচ্চা, হাঁসের বাচ্চা ইত্যাদি।
🔹 ‘শিশু’ শব্দের অর্থ ও ব্যবহার:
‘শিশু’ শব্দটি সংস্কৃত ‘শিশু’ (śiśu) থেকে এসেছে, যার অর্থ— মানুষের নবজাতক বা অল্পবয়সী সন্তান।
বাংলা একাডেমির মতে—“শিশু: (সং.) মানুষের নবজাতক বা অল্পবয়সী সন্তান।”
অর্থাৎ, মানুষের সন্তানকে শিশু বলা সঠিক।
👉 যেমন: শিশুর অধিকার, শিশু দিবস, শিশুশিক্ষা, শিশুমন ইত্যাদি।
🔹যুক্তি হলো:
বাচ্চা = পশুপাখির সন্তান
শিশু = মানুষের সন্তান
তাহলে যখন আমরা কোনো মানুষের ছেলে-মেয়েকে “বাচ্চা” বলি, তখন তা ভাষাগতভাবে ভুল ও অর্থবিকৃত হয়।
🔹 সঠিক ব্যবহার হবে:
❌ বাচ্চারা খেলছে।
✅ শিশুরা খেলছে।
❌ আমার বাচ্চা অসুস্থ।
✅ আমার শিশু অসুস্থ।
👉এবার আসুন কিছুটা সময় ছন্দালংকারে ডুবে যাই👈
🌿 শিশু না বাচ্চা?
একটু ভাবি...
মানুষের ঘরে শিশু জন্মায়,
পশুপাখির ঘরে বাচ্চা।
ভাষার এই সূক্ষ্ম সীমানায়,
আমরা কত ভুলে যাই, না-চাচ্ছি আঘাতটা।
বিড়ালের বাচ্চা, ছাগলের বাচ্চা,
পাখির বাচ্চা ঠিকই ঠিক—
কিন্তু আমার সন্তান, আমার আশীর্বাদ,
সে তো শিশু, নয় কোনো ছানা-ছিক।
ভাষা শুধু শব্দ নয়,
ভালোবাসার পরিচয়।
তাই বলি—
বলবো না “বাচ্চা”,
বলবো “শিশু”,
কারণ সে-ই আমাদের আগামী দিনের সূর্য। ☀️
🔹🔹মোটকথা🔹🔹
ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, সংস্কৃতিরও পরিচয়।
আমরা যদি শিক্ষিত হই, তাহলে ভাষায়ও হই সচেতন —
বলবো না “বাচ্চা”, বলবো “শিশু”। 🌿
https://www.facebook.com/jannatul.ferdausi.82
