ভুতবেল25ঃ সত্যঘটনা অবলম্বনে গল্পস্বল্প(৫)

https://www.khoborjal25.blogspot.com/
                                                  ভুতবেল25ঃ#রাত_তখন_বারোটা_২ 

ঘটনার উৎস: মসজিদের পাশে কবরখানা
ঘটনার সময়কাল: ১৯৯৯ 
              
#সত্য ঘটনা অবলম্বনেঃ
                           ৮ম শ্রেণির ফাইনাল পরীক্ষা শেষে বেড়াতে গিয়েছিলাম গ্রামের বাড়ি।পৌষের  নতুন ধান উঠেছে,  সারা বাড়িতে ,নতুন  ধানের গন্ধ। গ্রামের বাড়িতে কারেন্ট পৌছায়নি তখনো।আমরা চাচাতো ভাই বোনেরা  কম ছিলাম না। আব্বুরা ছিলেন ৬ ভাই,  তাদের সব মিলিয়ে ১৬ জন ছেলে ,আর ৮ জন মেয়ে।  আমার পিঠাপিঠি ছিলো ২ জন: ১. নাজমুল, ২. সাইফুল।  আমরা গ্রামের বাড়িতে গেলে ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করে চাচাতো ভাইয়েরা। যথারিতি ঐ বছরও টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হবে, তার আলোচনা করা হচ্ছে। খেলার পিকচার কারার দায়িত্ব পড়েছে আমার উপর। খেলার অংশগ্রহণকারী টিম ছিলো ৮টি। আমি খেলার পিকচার করছি  এশার নামাজের ঠিক পরে।  এমন সময় সাইফুল আমাকে ডাক দিয় বলল ,'' আমার সাথে যাবি মসজিদে,  আব্বার ( আমার ন কাকা)খাবার দিয়ে আসবো। আব্বা আজকে মসজিদে থাকবে। '' আগেই বলে রাখি ,আমাদের গ্রামের বাড়ি যাওয়া-আসা কারার রাস্তা ছিল কবরখানা আর পুকুরের মাঝখান দিয়ে।  মসজিদ কবরখানার পাশেই ছিল। আমি যেহেতু ব্যস্ত ছিলাম তাই সাইফুলকে বললাম,'' আমি যেতে চাই না।'' বাড়ি ফেরার ঠিক ২০-২৫  মিনিট মতো সময় পার হওয়ার পর ,আমার সেজোমা কেমন জেন একটা  শব্দ শুনতে পান, কোউ যেনো গোঙাচ্ছে। সেজোমা শুনে, হারিকেন নিয়ে দৌড় দিল বাড়ির বাহিরে ।আমরাও পিছন পিছন দৌড়ানো শুরু করলাম,কোথা থেকে শব্দ আসছে তা আবিষ্কার করতে। বেশি সময় লাগলো না, কারণ শব্দটা বেশ জোরেই আসছিলো। যেয়ে দেখি মসজিদের পুকুরের পূর্ব পাশে প্রায় শতবর্ষ বয়সের তেঁতুল গাছের নিচে কুটোর ( ধান মাড়াই করার পর অবশিষ্ট অংশ)  উপর পড়ে আছে সাইফুল, আর  গোঙাচ্ছে। সবাই জিজ্ঞেস করছে,'' অই সাইফুল কী হয়েছে?'' ও উওর দিতে চেষ্টা করছে, কিন্তু কী বলছে আমরা কেউ তা বুঝতে পারছি না। বড়রা সবাই বুঝে গেল কী হয়েছে।  আমি শফিভাই কে জিজ্ঞেস করতেই বললেন ,''চুপ থাক।'' আমিও  ভয় পেয়ে গেলাম। ওকে ধরাধরি করে ঘরের বারান্দায় আনা হলো। একটা মাদুর বিছিয়ে সাইফুলকে বসতে দেওয়া হলো। একজন হুজুর ডাকতে হবে সবাই বলছে। আমার বুঝতে বাকি থকলো না যে, ওকে জ্বীনে ধরেছে।  রাত ১০টার দিকে একজন হুজুরের খোঁজ পাওয়া গেল।  তিনি এসে সাইফুল যেখানে বসে ছিলো, তার চার পাশে একটি বৃত্ত আকৃতি দিয়ে দিল। আর বললেন,''এই বৃত্তের ভেতরে সাইফুলের মা ছাড়া কেউ ঢুকবে না।'' সেই রাতে আমি  একটুও ঘুমাতে পারিনি, ঘুম আসেওনি; খালি ভয় ভয় লেগেছে। আর ভেবেছি'' কখন সকাল হবে !'' সারারাত লেপ মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়েছি। ফজরের আযানের শব্দ কানে আসতেই, উঠে বসলাম, ভাবছি ''কী হবে !'' সকালবেলা সাইফুলকে নাস্তা খেতে দেওয়া হল। ওর সামনে যে-ই যাচ্ছে, তাকে  অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছে। আর আমাকে বলল, প্রস্রাব করতে যাবে।আমি বৃত্ত থেকে বের করলাম সাইফুলকে,অমনি সাথে সাথেই  দৌড় মারা শুরু করল। এক দৌড়ে পুকুর পাড়ে চলে গেল, পুকুরে নামতে চায়। কষ্ট করে কয়েকজন মিলে তাকে আবার নিয়ে আসা হলো। আবার বৃত্তের ভিতর রাখা হলো তাকে। আর বলা হলো, ওকে যেনো কেউ স্পর্শ না করে। এরকম চলতে থাকলো দুপুর বারোটা পর্যন্ত। এরমধ্যে আবারও  একবার চেষ্টা করেছে বৃত্তের বাইরে আসতে।  এবার বের হয়ে এসে-ই, দুই তিন বাড়ি পরে গিয়ে তার বন্ধু আজুবারের কাছে যেয়ে বলে ,"আমার বিড়ি দে।'' এরকম অদ্ভুত সব কান্ড দেখে, আমিতো ভয়ে প্রায় আধমরা। এদিকে সবাই অপেক্ষায় আছে, বড় হুজুর আসবেন। তিনটা নাগাদ বড় হুজুর আসলেন। সাইফুলের ঘাড় থেকে জ্বীন তাড়ানোর কার্যক্রম শুরু হলো। সাইফুলের নাম এবং তার মায়ের শাড়ি থেকে কিছু অংশ ছিড়ে নেওয়া হলো।কাপড়ের অংশটুকু সরিষার তেলে ভিজিয়ে,তাতে আগুন জ্বালিয়ে যেই-ই সাইফুলের নাকের সামনে ধরা হলো,অমনি " ও-রে মা ! এরা আমারে মেরে ফেললোগো,আমাকে বাঁচা"-বলে চিৎকার করতে থাকে।
হুজুর আবারও ধোঁয়া নাকে দিচ্ছে আর জিজ্ঞেস করছেন, "কেন এসেছিস?" উত্তরে বলে,"এর বংশধর আমাদের ক্ষতি করেছে, তার প্রতিশোধ নিতে এসেছি। আমি প্রতিশোধ না নিয়ে যাব না।" হুজুর আবারও ধোঁয়া নাকে দিচ্ছে আর বলছেন, " তুই যাবি কী-না বল?" উত্তরে বলে,"আমি প্রতিশোধ না নিয়ে যাবো না। "আরো বলে- "তোরা সবাই আয়, আমাকে এরা মেরে ফেললো"। এ রকম ৪ টা তেলে ভেজানো সিগারেটের মত কুন্ডলী পাকানো কাপড়ের ধোঁয়া, সাইফুলের নাকে দেওয়া হল। এবার সে বললো," আমি যাবো।" তখন  বৃত্ত থেকে বাহির করা হল সাইফুলকে; এক কদম, দুই কদম, এভাবে সাত কদম নিয়ে যাওয়ার পর, নিজের ঘাড় একপাশে শুইয়ে দিল। হুজুর বললেন " ও যায়নি। ভান ধরেছে, ওকে গন্ডির  (বৃত্তের) ভিতর নিয়ে যাও।আমি মাগরিবের নামাজ পড়ে আসছি।" মাগরিবের নামাজ পড়ে আসলেন হুজুর ।  আবার ধোঁয়া দেওয়া শুরু হল, কিন্তু সে যাবেই  না। অবশেষে না পেরে দোয়া পড়ে হুজুর মাটিতে দুইটা বাড়ি দিলেন। সাথে সাথেই জ্বীন বলে ওঠে," দাড়া, আমি যাব।"এবার হুজুর বললেন," তুই মুড়ো ঝাটা আর ভাংগা কুলা নিয়ে যা।" সে বললো- " না আমি কিছুই নিবো না।" হুজুর বললেন তাহলে তুই গেলি কী-না, বুঝবো কীভাবে?"  জ্বীন বলে যাওয়ার সময়,কবরখানার পাশে সিরিশ গাছের ডাল ভেংগে দিয়ে যাবে। আবারও  একই প্রক্রিয়া,  এক কদম, দুই কদম, এভাবে সাত কদম যেয়ে সাইফুল মাটিতে পড়ে গেল।এবং সাথে সাথেই সিরিশ গাছের ডাল ভাংগার শব্দ শুনতে পেলাম। সাইফুল অজ্ঞান অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকে।  সবাই ধরা-ধরি করে ঘরে নিয়ে যায়। সাইফুলের চোখে পানি দেওয়া হলো। কিছুক্ষণ পরে জ্ঞান ফিরলে সে বলে," এখানে এতো লোক কেন? আমার পিঠে ব্যাথা লাগছে কেন?" আমি ওর জামা খুলে দেখি পিঠে দুইটা দাগ হয়ে আছে। আমি বললাম তেমন কিছুই না। লোকজন সবাইকে চলে যেতে বলা হলো।সবাই আস্তে আস্তে চলে গেল। সাইফুলকে রাতের খাবার খেতে দেওয়া হলো। ও খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লো।
সকাল বেলা আমি ঘুম থেকে উঠেই সাইফুলকে দেখতে গেলাম। স্বাভাবিক ছিল আগের মতোই। আমি জিজ্ঞেস করলাম "কি হয়েছিল পরশু দিন,বলতো?" বললো, "মসজিদে আব্বার খাবার দিয়ে বের হতে হতে  সাগরের সাথে কথা বলছিলাম ও খালের ওপারে চলে গেল, আর আমি প্রসাব করতে বসলাম, ডান দিকে তাকাতেই দেখলাম সাগর এদিকে আসছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তুই না বাড়িতে গেলি আবার এদিকে কী? সাগর একটা মুচকি হাসি দিল। দেখলাম একটা দাঁত নিচের দিকে বের হয়ে গেল আর দুইটা দাঁত উপরের দিকে বের হয়ে গেল। আমি তাড়াতাড়ি উঠে ভাইয়ের দোকানে গিয়ে ভাই কে বললাম মা খেতে ডাকছে ( ভাইয়ের দোকান আমাদের পুকুরের দক্ষিণ কোনে ছিলো) আমি ফিরে আসার সময় বুদ্ধি করে কবরের মধ্যে দিয়ে আসছিলাম । ঠিক যখন কবরের মধ্যে থেকে রাস্তায় উঠলাম, আমার পিছন দিয়ে কী যেন উড়ে গেল। আমাকে তেঁতুল গাছের দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছিল। আমি তাকে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। তার পর আমি আর কিছুই বলতে পারি না।" পরেরটুকু আমি সাইফুলকে বললাম। সে খুবই লজ্জিত হলো। বড় হুজুর একটা কথা বলেছিলেন, তা আমার এখনো মাঝে মাঝে কানে বাজে "পৃথিবীতে মানুষ যদি, জ্বীন/ পরী দেখতে পেত তাহলে মানুষের পৃথিবীতে বসবাস করা কষ্ট হয়ে যেত। ওরা যাদের দেখা দিতে চায়, শুধু তারা-ই দেখতে পায়।"
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~0~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

(সংগৃহীতঃ এম,আই,)

Post a Comment

Previous Post Next Post