স্বাধীন বাংলার কদর কোথায় ?

 


স্বাধীন বাংলার কদর কোথায় ?

 দু:খ লাগে মনে,

বাংলা চর্চার নড়বড়ে সুর জেনে। 

আজ আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক।  বিদেশি বিনিয়োগ ছাড়া আমরা একদমই অচল।বিদেশি ভাষা চর্চা ছাড়া আমরা নিজেদের মূর্খ ভাবি। এমনই অবস্থা যে,ইংরেজি ভাষা না জানলে আমাদের আমিত্ব পদদলিত হয়। অথচ সেই বিদেশি বিলাই-কুকি আমাদের উপর কতইনা অত্যাচার চালিয়েছে নিরীহ বাঙালির উপর। নীলবিদ্রোহ,পলাশীর বিদ্রোহ,সিপাহী বিদ্রহ,,,,এমন কতোইনা বিদ্রোহের স্বীকার হয়েছিল বাঙালি। যে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করতে জীবনদান করেছে কতশত বাঙালির সাহসী সন্তান। আজ তারা বইয়ের পাতায় স্মৃতির পাতায়,ভাস্কর বেদীতে স্মারক চিহ্ন হয়ে দুলছে। একটা স্বাধীন দেশ,স্বাধীন ভাষার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছে, লক্ষকোটি বাঙালি। অথচ সেই  বাংলার ভাষা,কৃষ্টি,ঐতিহ্য,দেশের দেশাত্মবোধ পরবাসের ছোঁয়ায় বিলীন হচ্ছে। বছরে একবার বাঙালিয়ানার বিজয়যাত্রার সূচনা হয়। যে বিলেতি বালাই থেকে আমরা নিজ দেশের কৃষ্টি-ঐতিহ্যকে রক্ষণশীল করে জীবিত রাখতে প্রাণ দিয়ে,স্বাধীনতা অর্জন করেছি, সেই বিলেতি বালাই থেকে আমরা কি আদৌ নিজেদের স্বাধীন করতে পেরেছি !? 

স্বাধীনতা কাকে বলে ?  

স্বাধীন ভাষা কী ? 

এইসব প্রশ্নের উত্তর আমরা জানি। তবুও পরভাষায় আমরা মগ্ন। পরতুষ্টতে অভিভূত। 

নিজের ভাষায় শুদ্ধভাবে পড়তে -লিখতে - উচ্চারণ করতে আমরা ব্যর্থ; কিন্তু তার চর্চা স্বগন্ডিতে আবদ্ধ। স্বদেশের উন্নয়নে আমরা বিদেশির আশ্রয় খুঁজে ফিরি।সেই তো পরাজিত পরাধীন জাতি সত্তায় নাম লেখা রয়ে গেলো।স্বাধীন আর হলেম কোথায় আমরা। বিদেশিরা ঠিকই তো তাদের রাজত্ব হাসিল করে নিচ্ছে বিভিন্ন উপায়ে। আমরা নির্ভরশীল হয়ে গেছি তাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতিতে। আমাদের কী রইল ? পরভাষায় নিজেদের স্বাবলম্বী  করছি,নিজো ভাষায় নাবাল। তাদের জন্য আমরা তাদের ভাষা শিখছি,প্রবাসী হচ্ছি।আমাদের জন্য, তারা কি আমাদের ভাষা শিখছে ? 

এই হচ্ছে আমাদের ভাষার কদর,যত্ন। আমাদের যেটুকু আছে, তাই নিয়ে কি আমরা উন্নত রাষ্ট্রের অধিকারী হতে পারতাম না ? নিশ্চয়ই পারতাম। ইংরেজি যেমন আন্তর্জাতিক ভাষা,প্রত্যেক দেশেরই তেমন নিজোভাষা আন্তর্জাতিক হতে পারত,স্বীয় গুণে। বইপত্রে বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা করার কী অর্থ তাহলে,যেখানে বিদেশি ভাষার কদর ১০০% ? 

দেশ এগিয়ে চলেছে ঠিকই, তবে পরনির্ভরশীলতায়,পরাধীনতার শিকলে। গরীব দেশ,তাই আমরা পরনির্ভরশীল, তাই তো ? এসবই নিছক ধোঁকা, আর কিছু নয়। গরীব দেশের গরীব ভাত দিয়েই আমরা আমাদের দেশে সোনার ফুল ফোটাতে পারি,যদি সততা,নিষ্ঠা,একাগ্রতা, পরিশ্রম আমাদের মনে থাকত। 


Post a Comment

Previous Post Next Post