বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা

               ★বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা


  ( নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জান্নাতুল ফেরদৌসী )                                          

জান্নাতুল ফেরদৌসীঃচিরাচরিত তথ্য-ইতিহাস ব্যতীতই আমি আমার লেখনী উপস্থাপন করছি, বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটের আলোকে । সময় বহতা নদীর মতই বয়ে চলেছে সীমাহীন কালের স্রোতে । এক বিন্দুও থেমে নেই । বিভিন্ন গুনীজ্ঞানী তৈরি হয়ে চলেছে আমাদের এই সোনার বাংলায় । কিন্তু “হাতে খড়ি” হয়েছে তার কোথায় ? কে/কারা দিয়েছেন সেই গুনীজনদের ‘হাতে খড়ি’ ? নিশ্চয়ই কোনো প্রাথমিক শিক্ষক ।  

**প্রথমেই আসা যাক আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কিত কিছু কথা নিয়েঃ

ডিজিটাল বাংলাদেশে আমাদের বর্তমান বসবাস । এককভাবে,যৌথভাবে তৈরি হচ্ছে অগণিত ডিজিটাল শিক্ষক,শিক্ষার্থী । আমার প্রশ্নঃ সত্যিই কি তাতে আমাদের দেশে সার্বিকভাবে বড় প্লাটফর্মের কোনো উন্নতি হচ্ছে ? মুষ্টিমেয় কিছু সচল,সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছেলে-মেয়ে আর শিক্ষকরাই উপরে উঠে চলেছেন । এতে করে আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকদের কোনো উন্নতি হচ্ছে বলে আমার দৃষ্টিগোচর নয় । বরং দিনে দিনে সমাজব্যবস্থা অধপাতে যাচ্ছে ।

আমাদের এই স্বল্পোন্নত গরীব দেশের জন্য এমন শিক্ষাব্যবস্থা/শিক্ষাক্রম চালু হওয়া উচিৎ,যা কিনা সকল মেধাসম্পন্ন শিশুর জন্য একক ভূমিকা পালন করবে । মুখস্থ বিদ্যার পরিবর্তে,কর্মমূখী-ব্যবহারিক শিক্ষাক্রম হওয়া বাধ্যতামূলক । যাতে করে শিশুরা নিজেই নিজের শিখনফল অর্জন সফল করতে সক্ষম হবে ।

**এবার আসা যাক প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়ে কিছু কথাঃ

“সম্মান”নামক শব্দের সাথে আমরা প্রত্যেকেই পরিচিত । আর এই সম্মানটা প্রথমেই শিক্ষকদের উপরেই মানানসই । তবে শুরুটা প্রাথমিক থেকে হতে হবে । অনেকেই বলবেন যে, “সেই সম্মান তো দেওয়ায় আছে শিক্ষকদের ।”-সত্যি তো ?কতটুকু গণ্ডীর মধ্যে,কোন ক্যাটাগরির শিক্ষকদর জন্য আছে ? আমিতো দেখি “গুণ-ক্ষমতা ”সম্মত শিক্ষকদের জন্য,যা কিনা হাতেগোনা শিক্ষকের তালিকা । তাছাড়া আমরা যে,শিক্ষকঃশিষ্টাচার,ক্ষমা,কর্মঠ”-তা কোথায়,কার জন্য প্রয়োগ হচ্ছে ? আমরা কয়জন শিক্ষক এই মহৎ পেশার সঠিক ব্যবহার  করি ? কতটা সময়ইবা আমাদের বিদ্যালয়ের শিশুদের সাথে দিয়ে থাকি ? এমন আরও অনেক অনেক প্রশ্ন থেকে যায় শিক্ষক সম্পর্কে,যার শেষ সীমাহীন পথে ।

### সার্বিকভাবে শিক্ষা আর শিক্ষক সম্পর্কে এই কথায় বলতে চাই যে,আমাদের দেশকে ১০০%শিক্ষিতর খাতায় ঠাঁই নিতে হলে অবশ্যই প্রাথমিক স্তর থেকেই বৈষম্যহীন কর্মমুখী শিক্ষাক্রম চালু করতে হবে ।

আর শিক্ষার ভিত যেখানে শুরু,সেই স্থানটি সবার উপরে রেখে সমান সম্মানের ব্যবস্থা রাখা । শিক্ষকদের অপমান,মানসিক টর্চার না করে,সকল শিক্ষকের মান  এক পাল্লায় মাপার সুব্যবস্থা রাখা । তবে মনে রাখতে হবে,আমাদের সম্মান-মর্যাদা আমাদের কাছেই । সেখানে কোনো ঈর্ষা-অহমিকা-ফাঁকি যেনো বাসা না বাধে !

এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের কেবলই শিক্ষকতার কাজেই নিয়জিত রাখা। কারণ- একজন বা একাধিক শিক্ষক যখন পাঠদানের পরিবর্তে বিভিন্ন অফিসিয়াল কাগজপত্রের কাজ,সারা বছর বিভিন্ন আয়োজন অনু্ষ্ঠান করবেন,তখন নিজের মূল পেশার প্রতি অনিহা,ফাঁকি,খামখেয়ালী মনোভাব প্রভৃতির জন্ম হতে থাকে ।

তাই আসুন,

শুধুমাত্র নিজেকেই নয় আমার সাথে সম্পৃক্ত পেশা,শিক্ষার্থী নিয়ে কৃতিত্ব অর্জন করি,উপস্থিত সকল শিক্ষক সহ ; হাতেগোনা শিক্ষা/শিক্ষক যেনো না হয় । এমনকি,আমরা যেনো শিক্ষকতা করি;চাকরি না করি ।শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের জন্য সকল শিক্ষককেই সমানভাবে গড়ে তুলতে হবে;এককভাবে নয় ।প্রাথমিক শিক্ষকদের ধিক্কার,টর্চার,হেয় প্রতিপন্ন করা থেকে প্রত্যেকের বিবেকবোধকে মানুষের,নীতিবোধের ঘরে দীক্ষা দিতে হবে !!

Post a Comment

Previous Post Next Post